ঢাকা বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৬


https://www.ajkerbazzar.com/wp-content/uploads/2025/06/728X90_Option.gif

৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা দেনা বাড়িয়েছে ইউনূস সরকার


স্মার্ট প্রতিবেদক
৬:২৮ - সোমবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০২৬
৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা দেনা বাড়িয়েছে ইউনূস সরকার

ঋণ করে ঘি খাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধ করতে বড় অঙ্কের ঋণের ফাঁদে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পরিসংখ্যান বলছে, গত দেড় বছরে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা দেনা বাড়িয়েছে ইউনূস সরকার। এতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৮১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি ছিল ১৯ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন যে, এ সরকার ব্যয় সংকোচনের পাশাপাশি ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনবে। কিন্তু দেনার দায় উল্টো বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন যে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেবে, তাদের এই বিপুল পরিমাণ ঋণ ব্যবস্থাপনার কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আর্থিক খাত বিশ্লেষকেরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৮১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশি ঋণ ১১ লাখ ৩ হাজার ৯৩৯ কোটি এবং বিদেশি ঋণ ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি ছিল ১৯ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই বাদে বাকি সময়জুড়ে দায়িত্বে ছিল বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। দেশি-বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে একক বছর হিসেবে সর্বোচ্চ ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল সরকার। তবে সে সময় কোনো অর্থবছরেই সরকারের নেওয়া ঋণ আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসে প্রথমবারের মতো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ছয় মাসে নতুন ঋণ বেড়েছে আরও ৩০ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ করেছে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। 

সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাজেট সহায়তা হিসেবে এ অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। এটি সে সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতের বকেয়া বাবদ আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব কারণে সরকারকে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩০ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে, যা আলোচ্য অর্থবছরে মোট সরকারি ব্যয়ের ২১ শতাংশের বেশি। চলতি অর্থবছরে সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় আরও বাড়বে। তাছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে এক বছরের কম থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদের ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। সামনের দিনগুলোতে এসব বন্ডের মেয়াদ শেষে সরকারকে অর্থ ফেরত দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে নতুন করে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমেই এ অর্থ শোধ করতে হবে।

টাকার অঙ্কে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২০১৬ সালে প্রকল্পটি নেওয়ার সময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯১ হাজার কোটি টাকা রাশিয়ার এক্সিম ব্যাংকের ঋণ। সম্প্রতি টাকার অবমূল্যায়নসহ জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে এ প্রকল্পের ব্যয় ২৬ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঋণের কিস্তি ২০২৭ সালের মার্চে নির্ধারিত থাকলেও সম্প্রতি সেটি ১৮ মাস বাড়িয়ে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে এই ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু করতে হবে সে সময়ের সরকারকে।

রূপপুর ছাড়া যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের বেশ কিছু বড় প্রকল্পের ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে। এর মধ্যে সবার আগে ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের। প্রকল্পটির জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৯ হাজার ৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। ঋণ চুক্তি অনুযায়ী বর্তমানে বছরে প্রায় ৪২০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। ২০২৮ সালে কিস্তির পরিমাণ ৬৬০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে। এর সঙ্গে ২ শতাংশ সুদ আলাদা পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ শেষ হবে ২০৪৮ সালে।

বিগত সরকারের আমলে বাস্তবায়ন করা দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের আরেকটি বড় প্রকল্প উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল। ২০২৩ সালে মেট্রোরেলের জন্য জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ শুরু হয়েছে। মেট্রোরেল লাইন-৬ বাস্তবায়নের জন্য জাইকা ঋণ দিয়েছে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। ৩০ বছরে এ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ হিসাবে সুদ ছাড়া বার্ষিক গড় কিস্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৫৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটির বিপরীতে জাইকা ঋণ দিয়েছে পাঁচ ধাপে। বর্তমানে প্রথম ধাপের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব ধাপের কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে। মেট্রোরেলের ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২০৬১-৬২ অর্থবছর পর্যন্ত।

চীনের ঋণে বাস্তবায়ন করা হয়েছে কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প। প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭০ কোটি টাকা ঋণ। চুক্তি অনুযায়ী ঋণ পরিশোধে ১৫ বছর সময় পাবে বাংলাদেশ। এ হিসাবে সুদ ছাড়া বছরে গড়ে ঋণ শোধ করতে হবে ৪০৫ কোটি টাকা। এ প্রকল্প থেকে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। চীনের ঋণে বাস্তবায়ন করা যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের আরেক প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য বলছে, ছয় বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২০ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ, ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ সময় পাচ্ছে ১৪ বছর। এ হিসাবে বার্ষিক গড় ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০২ কোটি টাকায়। ঋণের সুদহার ২ শতাংশ। সার্ভিস চার্জ আরও দশমিক ২৫ শতাংশ।

তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আহরণে ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে রপ্তানি আয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোতে আয় বাড়ানো নিয়ে সরকারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তার মধ্যে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের চাপ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন যে রাজনৈতিক সরকার গঠিত হবে, তাদের মেয়াদের পুরোটা সময়জুড়েই এ চাপ বহন করতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জিডিপির অনুপাতে ঋণের দিক দিয়ে বাংলাদেশ এতদিন সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থার মূল্যায়নে উঠে এসেছে। তবে রপ্তানি আয়ের তথ্য সংশোধনের পর বাংলাদেশের ঋণের ঝুঁকি আগের নিম্ন অবস্থান থেকে বর্তমানে মধ্যম পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথভাবে তৈরি করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাশাপাশি জিডিপির অনুপাতে নিম্ন রাজস্ব আয় এবং স্থানীয় ঋণকাঠামোর অগভীরতার কারণে দায় পরিশোধের সক্ষমতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মাত্রার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

উত্তরাধিকার সূত্রে অন্তর্বর্তী সরকার যে ঋণের বোঝা পেয়েছে, সেটি পরিশোধ করাই চ্যালেঞ্জের বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ধার করে বিশ্বের কোনো সরকারের পক্ষেই বেশি দিন চলা সম্ভব নয়। এরই মধ্যে সরকারের ঘাড়ে যে ঋণের বোঝা চেপেছে, সেটি অনেক বড়। রাজস্ব আহরণ থেকে সরকারের আয়ের যে পরিস্থিতি, তাতে ঋণের এই বোঝা শিগগির কমবে বলে মনে হয় না। আবার আয় বাড়ানোর কোনো পথরেখা ছাড়াই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বেতন কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকারের পরিচালন ব্যয় আরও ১ লাখ কোটি টাকা বেড়ে যাবে। এই টাকা কোথা থেকে আসবে, তার জবাব নেই।’

এদিকে গত বুধবার ছয় মাসের বৈদেশিক ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে ১৯৯ কোটি ডলার। তার মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১২৬ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) ১ কোটি ৮৪ লাখ ডলার এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থা থেকে এসেছে ৭০ কোটি ১৮ লাখ ডলার। তবে ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপানÑ এই চার দেশ নতুন করে কোনো ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি। পাশাপাশি এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও (এআইআইবি) কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপান ঋণের প্রতিশ্রুতি না দিলেও আগের দেওয়া অর্থ ছাড় করেছে। চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে ২৪৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার ছাড় করেছে দেশগুলো। এর মধ্যে রাশিয়া সর্বোচ্চ ৫৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার ঋণ ছাড় করেছে। সংস্থার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়েছে আইডিএ। সংস্থাটি প্রায় ৫৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার অর্থ ছাড় করেছে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশ ও সংস্থার মধ্যে এডিবি ৫১ কোটি ৯১ লাখ, এআইআইবি ২ কোটি ৯১ লাখ, জাপান ১২ কোটি ১৮ লাখ, ভারত ১০ কোটি ৪৬ লাখ এবং চীন ২২ কোটি ডলার দিয়েছে। অন্যান্য দেশ ও সংস্থা থেকে এসেছে ৩৭ কোটি ৯৩ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।

বিদেশি ঋণ কম আসার পেছনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও নির্বাচিত সরকারের অনুপস্থিতিকে কারণ হিসেবে দেখছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেক উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা ঋণ অনুমোদন করলেও তা দ্রুত ছাড় করছে না, আবার কেউ কেউ নতুন করে ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। এর পেছনে বড় কারণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং নির্বাচিত সরকারের অনুপস্থিতি। বিদেশি দাতা দেশ ও উন্নয়ন অংশীদারেরা সাধারণত কোনো দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতিনির্ধারণের ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ সরকারব্যবস্থার দিক পর্যবেক্ষণ করে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা মূলত ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ নীতি অনুসরণ করছে। বিনিয়োগের মতো ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটার অপেক্ষা করছে।’