নোয়াখালীর
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায়
অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী চাকরি প্রত্যাশিরা।
সোমবার
দুপুরে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন শেষে
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারক লিপি প্রদান করেন ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধনে
ভুক্তভোগীরা বলেন, গত ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ
পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও নৈরাজ্য দেখা গেছে। পরীক্ষার পূর্বেই
মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত
হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে পুনরায় পরীক্ষা
গ্রহণ, দূর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া
স্বচ্ছ করার দাবি জানানো হয়।
স্মারক
লিপিতে অভিযোগ করা হয়, পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র মিলিয়ে
অনিয়ম, পরীক্ষার্থীদের হয়রানি, সঠিক সময়সূচি না মানা, পরীক্ষার মাঝে বাইরে
লোকজন প্রবেশসহ নানা ত্রুটি ছিল। পরীক্ষা গ্রহণের দুই ঘন্টার মধ্যে প্রায়
সাড়ে ৭ হাজার পরীক্ষার্থীর খাতা মূল্যায়ন কিভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, তা
নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব কারণে মেধাভিত্তিক সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত
হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
পরীক্ষার্থীরা
বলেন, বর্তমান সিভিল সার্জন একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্রী নেত্রী ছিলেন। তাঁর
স্বামীও ওই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা। কাজেই তিনি তাঁর পছন্দের রাজনৈতিক
দলের কর্মীদের সুবিধা দিতে পরীক্ষা গ্রহণের পূর্বেই প্রশ্ন ফাস করে দেন।
দীর্ঘ প্রস্তুতি সত্ত্বেও ন্যায্যভাবে পরীক্ষা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ ও হতাশা
প্রকাশ করেন তারা। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়মের সত্যতা
যাচাই এবং সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান
জানান তারা।
এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত
ছিলেন পরীক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন শেষে পরীক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের বরাবর
স্মারক লিপি প্রদান করেন।
এদিকে,
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোমবার দুপুর ১টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গিয়ে
সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমিকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
নোয়াখালীর
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্মারকিলিপি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত
করে বলেন, বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হবে।